প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি বাবদ ২৫০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ। এ অর্থের মাধ্যমে একটি বিটকয়েন রিজার্ভ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। খবর দ্য ন্যাশনাল।
প্রায় ৫০টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ট্রাম্প মিডিয়ার ১৫০ কোটি ডলারের সাধারণ শেয়ার কিনবে। বাকি ১০০ কোটি ডলার আসবে বিশেষ ধরনের ঋণ ‘কনভার্টিবল সিনিয়র নোট’ থেকে।
ট্রাম্প মিডিয়া বলেছে, সংগৃহীত অর্থ দিয়ে তারা একটি ‘বিটকয়েন ট্রেজারি’ গঠন করবে। পদক্ষেপটি ট্রাম্পের ডিজিটাল কারেন্সি বিষয়ক প্রচারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নির্বাচনের আগে সরকারিভাবে ‘স্ট্র্যাটেজিক বিটকয়েন রিজার্ভ’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ট্রাম্প মিডিয়ার সিইও ও চেয়ারম্যান এবং সাবেক কংগ্রেসম্যান ডেভিন নুনেস বলেন, ‘বিটকয়েনকে আর্থিক স্বাধীনতার সর্বোচ্চ প্রতীক হিসেবে দেখি আমরা। এখন ট্রাম্প মিডিয়া নিজেদের সম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রাখবে। এটি আমাদের কোম্পানিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হয়রানি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে।’
তিনি আরো জানান, সাবস্ক্রিপশন পেমেন্ট এবং ট্রুথ সোশ্যালের নিজস্ব ব্লকচেইনে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোকারেন্সির সুবিধা দেবে বিটকয়েনের এ মজুদ।
প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সির বিপক্ষে। কিন্তু এখন তিনি দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টেছেন। সর্বশেষ নির্বাচনী প্রচারে প্রথম কোনো বড় প্রার্থী হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি আকারে অনুদান গ্রহণ করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর নিজের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সিও চালু করেছেন।
গত সপ্তাহে নিজের ক্রিপ্টো প্রকল্পের শীর্ষ ২২০ বিনিয়োগকারীকে ভার্জিনিয়ার একটি বিলাসবহুল গলফ ক্লাবে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহারের সমালোচনা উঠেছে।
গত বছরের মে মাসে ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো ক্লাবে একটি নির্বাচনী প্রচার ইভেন্টে ক্রিপ্টো খাতসংশ্লিষ্টরা এ আশ্বাস দেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুনর্নির্বাচিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করবেন। তিনি ওই সময় বড় একটি বিটকয়েন ইভেন্টেও বক্তৃতা দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির প্রভাবে সম্প্রতি বিটকয়েনের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।